যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক এখন সরাসরি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকির জবাবে কঠোরতম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরান।

ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত-তাদের আঙুল ট্রিগারে- আমাদের স্থল, আকাশ এবং সাগরে যে কোনো হামলার জবাব তাৎক্ষণিক এবং শক্তিশালীভাবে দেওয়া হবে।

আরাগচি বলেছেন, গত বছরের জুনে দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে তারা মূল্যবান শিক্ষা নিয়েছেন। যারমাধ্যমে তারা আরও ক্ষিপ্র এবং দ্রুত গতিতে জবাব দিতে পারবেন।

এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত বুধবার, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় ইরানকে সরাসরি হুমকি প্রদান করেন। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিশাল ও শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজের বহর ইতিমধ্যে ইরানের অভিমুখে রওনা হয়েছে।

তিনি তেহরানকে দ্রুত একটি নতুন পারমাণবিক ও মিসাইল চুক্তিতে আসার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, আলোচনার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি ইরান চুক্তিতে না আসে, তবে গত বছরের জুনে তাদের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে যে হামলা চালানো হয়েছিল, এবার তার চেয়েও অনেক বড় ও বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো হবে।

ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক বক্তব্যের পরপরই ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার পূর্ণ প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

তিনি গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই সংঘাত থেকে ইরান ও তার মিত্ররা অত্যন্ত মূল্যবান সামরিক শিক্ষা গ্রহণ করেছে। এই অভিজ্ঞতার ফলে ইরানি বাহিনী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষিপ্র এবং যেকোনো আক্রমণের জবাব দিতে তাদের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।